আগে ঘরোয়া ক্রিকেট চান তামিম

প্রকাশিত: ৯:১৫ অপরাহ্ন, মে ২, ২০২০

করোনাভাইরাসের কারণে সবকিছুর মতো অনেকদিন থেকেই থমকে আছে ক্রীড়াঙ্গন। ক্রিকেটে যেমন স্থগিত হচ্ছে একের পর এক সিরিজ। শঙ্কা আছে আগামী টি২০ বিশ্বকাপ নিয়েও। আন্তর্জাতিক সূচিতে এরই মধ্যে লেগে গেছে বড় জট। লকডাউন অবস্থা কাটলেই তাই শুরু হতে পারে টানা ব্যস্ততা। তবে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নয়, প্রথমে চালু করতে হবে ঘরোয়া ক্রিকেট। বুধবার রাতে ফেসবুক লাইভে যোগ দেন তামিম। তামিম দুটি বিষয় মাথায় রেখে ঘরোয়া ক্রিকেট আগে শুরুর পক্ষে মত দিয়েছেন।

টানা খেলায় অভ্যস্ত থাকা ক্রিকেটাররা অনেকদিন থেকেই খেলা, অনুশীলন সবকিছু ছাড়াই বাড়িতে বসে আছেন। তামিমের মতে, লম্বা সময় মাঠের বাইরে কাটিয়ে হুট করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নামা ঠিক হবে না। এই ওপেনারের বক্তব্য, ‘পরিস্থিতি যখনই স্বাভাবিক হবে, আমি চাই ঘরোয়া ক্রিকেটটা আগে শুরু হোক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নামার আগে সব দেশেরই ঘরোয়া ক্রিকেটটা আগে দরকার।’

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ। লিস্ট-এ ফরম্যাটে দেশের একমাত্র আসরটি স্থগিত হয়ে গেছে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য। বর্ষা মৌসুম আর আগামী ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির কথা মাথায় নিলে টুর্নামেন্টটির এবারের আসর রয়েছে অনেকটাই অনিশ্চয়তায় ঘেরা।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ বাংলাদেশের বেশিরভাগ স্থানীয় ক্রিকেটারের আয়ের একমাত্র উৎস। এসব ক্রিকেটারের কথা ভেবেও আগে ঘরোয়া ক্রিকেট চাওয়া তামিমের, ‘আপনারা জানেন, আমাদের দেশের বেশিরভাগ ক্রিকেটারের রুটি-রুজির ক্ষেত্র প্রিমিয়ার লিগ। কাজেই আমি চাইব, যখনই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, আগে যেন প্রিমিয়ার লিগটা শুরু হয়।’

পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের সফলতম ব্যাটসম্যান তিনি। ওয়ানডে আর টি২০তে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানও তার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক যুগের বেশি সময়ে তামিম ইকবাল খেলেছেন অসংখ্য বোলারকে। সামলেছেন বহু কঠিন পরিস্থিতি। তবে এতসব বোলারের মধ্যে দুর্বোধ্য বাছতে গিয়ে তিনজনের নাম নিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক।

একপর্যায়ে তামিমের কাছে প্রশ্ন গিয়েছিল, তার খেলা সবচেয়ে কঠিন তিনজন বোলার কে কে? বাঁহাতি তামিম বেছে নেন দুজন অফ স্পিনার ও একজন পেসারকে, ‘প্রথম সাঈদ আজমলের কথা বলব। যখন ও সেরা ছন্দে ছিল, ওর বল বুঝতেই পারতাম না। খেলতে খুব সমস্যা হতো। এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার মরনে মরকেলকে কঠিন মনে হতো। রবীচন্দ্রন অশ্বিন আরেকজন, যিনি এখনো অবশ্য খেলছেন। তাকে খেলাও ভীষণ কঠিন। এই তিনজনের নাম নেব, তারা খুবই দক্ষতাসম্পন্ন বোলার।’

বাঁহাতি হওয়ায় তামিমের বিপক্ষে অফ স্পিনাররা পান বাড়তি সুবিধা। অফ স্পিনারদের খেলতে বিভিন্ন সময়ে অস্বস্তি দেখা গেছে তার মধ্যে। প্রতিপক্ষ দলগুলোকে তার এই দুর্বলতা কাজে লাগাতে চেষ্টা করতেও দেখা গেছে বহুবার। মাঝেমধ্যে অবশ্য ক্রিজে থেকে তেড়েফুঁড়ে বেরিয়ে সহজাত ভঙ্গিমায় অফ স্পিনারদের উড়িয়ে চাপও সরান তিনি।

করোনা সংকট মোকাবিলায় ব্যক্তিগত জায়গা থেকে অনেক কিছু করছেন তামিম ইকবাল। সর্বশেষ ক্রিকেটের বাইরের ৯১ ক্রীড়াবিদকে দিয়েছেন আর্থিক সহায়তা। এই ওপেনার মনে করেন, তিনি একাই এমনটা করছেন তা নয়, আরও অনেকে এগিয়ে এসেছেন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে।

‘অমি একা নই। আরও অনেকে সাহায্য-সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।’- এমন মন্তব্য করে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক জানিয়েছেন, করোনা সংকট কাটিয়ে উঠতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই, ‘আসলে দরকার সম্মিলিত প্রচেষ্টা। সবাই একটু একটু করে সহযোগিতার হাত বাড়ালেই দেখবেন আর কোনো সমস্যা থাকবে না।’

তামিমের বিশ্বাস, এই সংকটকালে সবাই নিজের খাবার ভাগাভাগি করলে কারও আর কষ্ট থাকবে না। ওয়ানডে অধিনায়কের চাওয়া, ‘এখন এমন এক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যাতে আসলে সম্মিলিত প্রচেষ্টাই দরকার। আমি অনেককে চিনি, জানি। যারা স্পোর্টসেরই মানুষ। আবার তার বাইরেও অনেকে আছেন, যারা কষ্টে থাকা অসহায় মানুষদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন এবং সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এখন যে সংকটকাল চলছে, সবাই মিলে কাজ করলে এই সংকট আর থাকবে না। আমরা যদি নিজেদের খাবার শেয়ার করি, তাহলে আর কারও খাবারের কষ্ট হবে না।’