ড. মোহাম্মদ সামছুদোহা

শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া যাবে না…

প্রকাশিত: ৯:৩১ অপরাহ্ন, মে ২, ২০২০

মারাত্মক সেশন জ্যামে আটকে থাকা কিছু ছাত্রের সাথে কথা বলে মনটা ভারী হয়ে গেল। কারো বাড়ি থেকে প্রেসার বাবা রিটায়ার্ড, কারো এই ভার টানার সামর্থ্য নেই, আরো অন্য অনেকের হরেক রকম সমস্যা। তাছাড়া এই যুগে কেউ কি চার বছরের কোর্স পাঁচ-ছয় বছরে শেষ করে? উন্নত বিশ্বে এক দিনও এদিক সেদিক হয় না। ছেলেমেয়েরা ঠিক ভর্তি হবার দিনই জানেন কোন দিন তাদের গ্রাজুয়েশন হবে। ঠিক সেই অনুযায়ী ওরা সব প্লান করে।

বাংলাদেশে প্রায় ৮-১০ লাখ ছেলেমেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। প্রাইভেট পাবলিক প্রায় সমানভাবে ভাগ করে নিয়েছে এদের। বিশ বছর আগেও দৃশ্যপট এইরকম ছিল না। এই দুই মাসের লকডাউনে প্রাইভেটরা আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। এদের প্রায় বেশির ভাগই অনলাইনে কাজ চালিয়ে নিচ্ছে। এক্ষেত্রে পাবলিক আরো এক যোজন পিছিয়ে গেল! কেন এইরকম হলো? এখনো ইনফ্রাস্ট্রাকচার চিন্তা করলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অনেক এগিয়ে। রিসোর্সেও অনেক এগিয়ে। কারণ পাবলিকের ফ্যাকাল্টিরাই প্রাইভেটে ক্লাস নিয়ে উনাদের সাহায্য করেন। তাহলে কী কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছে? এমন না তো যে পুরানো মন মানসিকতার কারণে? জানি না? যারা কাজ করছেন উনাদের খতিয়ে দেখতে হবে সমস্যা কোথায়? সমস্যা থাকলে উপড়ে ফেলতে হবে না হয় যুগের পর যুগ সমস্যা টানতে হবে।

করোনাভাইরাস এলো আর দাপট নিয়ে রাজত্ব করে যাচ্ছে দিনের পর দিন। কী উন্নত কী অনুন্নত কাউকে ছাড়ছে না। আমি যেহেতু এই মুহূর্তে আমেরিকায় একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করছি আমি দেখতে পাচ্ছি কী রাতারাতি ওরা যতটুকু পারে অনলাইনে নিয়ে আসছে সমস্ত কাজকর্ম। আমাদের লিখাপড়ার এক ঘণ্টাও ব্যাঘাত হয়নি। কারণ এদের এখানে অনলাইনের অবকাঠামো তৈরী ছিল। স্রেফ যথাযথ পরিকল্পনা করে ঘোষণা দেয়ার সাথে সাথেই সব অনলাইনে। আজ প্রায় ৮ সপ্তাহ আমরা লকডাউনে। কিন্তু লিখাপড়ার কার্যক্রম বন্ধ নেই। এই সপ্তাহ পরেই সেমিস্টার ফাইনাল।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন কিছুপ্রতিষ্ঠান/বিভাগ অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছেন। সত্য করে বললে, কিছু সংখ্যক শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন। একই বিভাগের অনেক শিক্ষক নির্বিকার। আবার অনেক বিভাগের শিক্ষকরা নাকে তেল দিয়ে বসে আছেন এই বলে এটা তার কাজ না। কিছু না করলেও চাকরি যাবে না ভাব। অথবা অনলাইন ফরম্যাটে পারবেন না ভাবছেন। আসলেই কি? তাহলে প্রাইভেট কী করে পারছে? একই বয়সের মানুষগুলোই নিচ্ছেন।

অন্যদিকে অনেক ছাত্ররা এই খরচ চালাতে পারবেন না বলছেন। ছাত্ররা যারা এফোর্ড করতে পারছে না তাদের বলি, এক মাস বাড়ির বাইরে থাকলে আপনার কি তিন হাজার টাকা খরচ হতো না? এখন দেড় থেকে তিন হাজারে কাজ চালানোর মতো স্মার্ট ফোন পাওয়া যায়। এক শ’ টাকায় এক জিবি ইন্টারনেট পেয়ে যাবেন। তাহলে কেন গো-গাই করছেন। তাছাড়া এই অনলাইন লেকচার রেকর্ড করা যায়, আপনি যখন ইন্টারনেট পাবেন দেখে নিতে পারেন। অনেক সহজ তাই না? এখন গুগল মিটিং এপ্লিকেশন ২৫০ জন নিয়ে কাজ করা যায়। ফ্রিতে দিচ্ছে। আর কী চাই? আমাদের চার পাঁচ বছরের বাচ্চারা কাজ করছে জুম না হয় গুগুল মিটিঙে। সেখানে উনারা পারবেন না তা কেমন করে হয়? একটু চাইলেই পারবেন। আর না হয় এই ছেলেমেয়েগুলো পিছিয়ে যাবে।