আধুনিকতার সংস্পর্শে হারিয়ে যাচ্ছে কুপি বাতি

প্রকাশিত: ১২:০৮ অপরাহ্ন, মে ৪, ২০২০

আধুনিকতার সংস্পর্শে আহবহমান গ্রামবাংলার এক সময়ের জনপ্রিয় কুপি বাতি কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে। এই কুপি বাতি শুধুই এখন স্মৃতি, কালের বির্বতনে কুপি বাতির স্থান দখল করে নিয়েছে বৈদ্যুতিক বাল্ব, চার্জার, চার্জার ল্যাম্প, চার্জার লাইটসহ আরো অনেক কিছুই। নওগাঁর আত্রাইয়ে এর কদর নেই বললেই চলে। এক সময় আবহমান গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে এই কুপি বাতি আলো দিত। যা এখন খুব কমই চোখে পড়ে।

কুপি বাতিগুলো ছিল বিভিন্ন ডিজাইনের ও বাহারি রঙের। এই কুপিগুলো তৈরি হত কাঁচ, মাটি, লোহা আর পিতল দিয়ে। গ্রামবাংলার মানুষ সামর্থ অনুযায়ী কুপি কিনে ব্যবহার করতেন। বাজারে সাধারনত দুই ধরনের কুপি পাওয়া যেত বড় ও ছোট। বেশি আলোর প্রয়োজনে কুপি বাতিগুলো কাঠ এবং মাটির তৈরি গাছা অথবা স্টান্ডের উপর রাখা হত।

কিন্তু বর্তমানে গ্রামে বিদ্যুতের ছোঁয়ায় কুপি বাতির কদর যেন হারিয়ে গেছে। বিদ্যুৎ না থাকলেও গ্রামবাংলার মানুষ ব্যবহার করছেন সৌর বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন রকমের চার্জার। রুপসী-গ্রামবাংলা আপামর মানুষের কাছে কুপি বাতির কদর কমে গেলেও আবার কেউ কেউ এই কুপি বাতির স্মৃতি আকড়ে ধরে রেখেছেন।

আত্রাইয়ে অনেকেই আবার সৌখিন হিসাবেও কুপি বাতি ব্যবহার করতে দেখা যায। মাড়িয়া গ্রামের আমানুল্লাহ এর বাড়িতে এখনও এই কুপি বাতির আলো তার ঘরকে আলোকিত করে। তিনি জানান, আমাদের ছোট থেকে এ বাতি জালিয়ে বড় হয়েছি তাই এটাকে আমরা ঐতিহ্য হিসেবে ধরে রেখেছি । তাই বিদ্যুৎ বা সৌর-বিদ্যুৎ এর যুগেও আমরা এখনও এই কুপি বাতি ব্যবহার করছি।

অনেকে আবার স্বযত্নে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের নিদর্শণ স্বরুপ এটি সংরক্ষণ করে রেখেছেন। আবহমান গ্রামবাংলায় কুপি বাতির মত ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন আজ প্রযুক্তির কল্যাণে বিলীন হযে যাচ্ছে। নওগাঁর আত্রাই  উপজেলাতে এর কদর দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে জাদুঘরে এর স্থান দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সুশীল সমাজ।