কুয়েতের ক্যাম্পে থাকা বাংলাদেশিরা ফিরছেন

প্রকাশিত: ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, মে ৯, ২০২০

অবশেষে মুক্তি পাচ্ছেন তারা। ৬টি ফ্লাইট প্রস্তুত করা হয়েছে তাদের ঢাকায় পৌঁছে দিতে।  প্রথম ৩ ফ্লাইটে ফিরবেন ৬১৮ জন। পরবর্তী ৩ ফ্লাইটেও সমান সংখ্যক বাংলাদেশি ফিরছেন জানিয়ে কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম  বলেন, এক  মাস হয় বাংলাদেশিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অবৈধ অভিবাসীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে কুয়েত সরকার। প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য  বিভিন্ন অস্থায়ী ক্যাম্পে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে। খাবার-দাবার না পাওয়াসহ ক্যাম্পের পরিবেশ নিয়ে অনেক অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু পুরোটাই কুয়েত সরকারের নিয়ন্ত্রণে। সেখানে প্রায় প্রতিদিনই দূতাবাসের অফিসার গেছেন, তাগদা দিয়েছেন দাবি করে রাষ্ট্রদূত বলেন, আজ নয় কাল বলে তারা সময় নষ্ট করেছে, দেরি করেছে। বাংলাদেশ সরকার অবৈধ বাংলাদেশিদের গ্রহণে যে সম্মত তা অনেক আগেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, কুয়েত সরকার  ফ্লাইট অ্যারেঞ্জ করতে না পারায় বাংলাদেশিদের কষ্ট হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, এখন তারা ৬ টি ফ্লাইট প্রস্তুত করেছে। এরমধ্যে ৩টি ফ্লাইটে ৬১৮ জনের একটি তালিকা পেয়েছি। আশা করি দু’একদিনের মধ্যে তাদের বিমানে তোলা হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশিরা ক্যাম্পে এতোটাই মানবেতর অবস্থায় ছিলেন, এমনও রাত গেছে, একটি চিপস খেয়ে তাদের সেহরি করতে হয়েছে। সেখানে বিনা চিকিৎসায় দু’জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। এ সব নিয়ে ক্যাম্পে থেকে তারা ক্ষোভ-বিক্ষোভও করেছেন।

৩০ লাশ নিয়ে বিপাকে দূতাবাস: রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম জানান, সাধারণ ক্ষমার আওতায় দেশে ফেরার জন্য প্রত্যাবাসন ক্যাম্পে অপেক্ষমাণ দু’জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের সব কিছু প্রস্তুত ছিল। কিন্তু ফ্লাইট দেরি হওয়ায় তারা জীবিত দেশে যেতে পারলেন না। আফসোস করে রাষ্ট্রদূত বলেন, এখন আমরা তাদের লাশ পাঠানোর প্রক্রিয়ায় আছি। নিয়মিত ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে কুয়েতে সাধারণ রোগে ৩০ জন বাংলাদশি প্রাণ হারিয়েছেন জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, তাদের প্রত্যেকের লাশ রাখা হয়েছে বিভিন্ন মর্গে। এসব লাশও দেশে ফেরত পাঠানোর চাপ আছে। দূতাবাস চেষ্টায় রয়েছে, অবৈধদের বহনকারী কুয়েত সরকারের স্পেশাল ফ্লাইটগুলোতে কিছু লাশ পরিবহনের। যদি তারা রাজি হয়। তবে তিনি নিশ্চিত করেন প্রত্যাবাসন ক্যাম্পে মারা যাওয়া দুই বাংলাদেশির লাশ আসন্ন স্পেশাল ফ্লাইটেই দেশে যাচ্ছে।

জেলে থাকা ১৯৬ অপরাধীর মুক্তি আটকে গেছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ারর আলম দু’দিন আগে জানিয়েছিলেন ১৯৩ বন্দিকে বহনকারী কুয়েতের বিশেষ ফ্লাইটটি ঢাকায় নামতে অনুমতি দেয়া হয়েছে। কুয়েত সরকার চাইলে তাদের যে কোনো সময়  ফেরাতে পারে। কিন্তু না, রাষ্ট্রদূত বলছেন, কুয়েত সরকার এখন তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করছে, মোট ১৯৬ জন বাংলাদেশিকে মুক্তি দেয়ার একটি তালিকা তারা দূতাবাসকে শেয়ার করেছিল, কিন্তু পরবর্তীতে ১৪৬ জনকে মুক্তি দেয়ার কথা জানায়। তাদের মধ্যে অনেকের যাবজ্জীবন দ-ও রয়েছে। বাকীদের বিষয়টি ঝুলে যাওয়ায় ফ্লাইটও আপাতত স্থগিত বলে জানান রাষ্ট্রদূত।

করোনায় মারা গেছেন ১৮ বাংলাদেশি, আক্রান্ত ৬শ’ ছড়িয়েছে: সরকারি হিসাবে কুয়েতে করোনায় মারা গেছেন ৮ বাংলাদেশি। কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালের দেয়া পরিসংখ্যান এটি। তবে রাষ্ট্রদূত বলছেন, অন্য সব হাসপাতাল মিলে করোনায় আরো ১০ জন অর্থাৎ ১৮ বাংলাদেশি মারা গেছেন বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। রাষ্ট্রদূতের দাবি ৬ লাখ বাংলাদেশির বাস কুয়েতে। এর মধ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬শ’ ছড়িয়েছে বলে তার অনুমান। তবে আক্রান্তদের অনেকে সুস্থ হয়ে ফিরছেন জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, করোনায় মারা যাওয়া কারো লাশ দেখতেই দেয় না কুয়েত সরকার। তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো কুয়েতেও দাফন করা হচ্ছে। তবে অবশ্যই স্ব স্ব ধর্মীয় রীতি মানা হচ্ছে।

সাধারণ ক্ষমার সূযোগ প্রত্যাখ্যানকারীদের সামনে আরো বড় বিপদ: কুয়েত টাইমস তাদের বিভিন্ন রিপোর্টে জানিয়েছে, এক তৃতীয়াংশ অবৈধ অভিবাসী সাধারণ ক্ষমার আওতায় জেল-জরিমানা ছাড়া দেশ ফিরতে কুয়েত পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন করেছেন। ওই তালিকায় ৪ হাজার ৪ শ ৯০ বাংলাদেশি রয়েছেন। প্রথম দফায় ১১ থেকে ১৫ ই এপ্রিলের মধ্যে স্বেচ্ছায় ধরা দেন অবৈধ ওই বাংলাদেশিরা। ২ রা এপ্রিল দূতাবাসের জারি এ সংক্রান্ত নোটিশে ৩ শর্তের উল্লেখ ছিল। যার অন্যতম শর্ত ছিল কুয়েত সরকারই তাদের বিমান বা টিকেটের ব্যবস্থা করবে, তবে সেটি না হওয়া পর্যন্ত একটি স্থানে (প্রত্যাবাসন পূর্ব ক্যাম্পে) তাদের রাখা হবে। ওই ক্যাম্পে খাবারসহ প্রয়োজনীয় সব কিছু কুয়েত সরকারই ব্যবস্থা করবে। রিপোর্ট বলছে, কুয়েত সরকার করোনার দখল সামলে ওঠার পরপরই অবৈধদের ধরতে কঠোর অভিযানে নামার আভাস দিয়েছে। সেই সময় যারা ধরা পড়বেন তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলেও ইঙ্গিত দিচ্ছে কুয়েত টাইমস।

ঢাকায় প্রবাসীদের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক হচ্ছে: এদিকে করোনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তাদের নিজ নিজ জেলখানা, ডিটেনশন সেন্টারগুলো খালি করা এবং অবৈধদের ফেরতের অংশ হিসাবে যাদের ফেরত পাঠাচ্ছে ঢাকায় তাদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করোনা সেল বলছে, ৪০০০ প্রবাসী বা বিদেশ ফেরতের একসঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারিন্টিন সুবিধা প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে তাদের রাখা হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রী দু’দিন আগে বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে ২৮ হাজার ৮শ’ ৪৯ বাংলাদেশিকে গ্রহণে তারা পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছেন।